February 19, 2026, 3:24 pm

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন: এইচআরসিপি/পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে পুলিশের ৯২৪ জনকে নির্বিচার হত্যা ক্ষমতার শিখরে গিয়ে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন তারেক রহমান রমজানে অফিস-আদালতে কার্যক্রম নতুন সময়সূচিতে প্রথম বৈঠক/মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার নির্দেশনা মন্ত্রিসভা/মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন যারা ২টি শপথই নিলেন জামায়াত জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নেয়নি শপথ বিএনপি আলি রিয়াজ নিজেই ভোট দেননি, কারন তিনি বাংলাদেশের ভোটার নন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৭তম জন্মদিন আজ বাম রাজনীতির ভরাডুবি: কোথাও ভোট ১’শরও কম, সুবিধাবাদের দায়ে তীব্র প্রশ্ন

মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন: এইচআরসিপি/পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে পুলিশের ৯২৪ জনকে নির্বিচার হত্যা

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে, তা উদ্বেগের সীমা অতিক্রম করেছে। গত আট মাসে অন্তত ৯২৪ জনকে হত্যা করেছে পুলিশ—একপর্যায়ে আইন এবং মানবাধিকারের প্রতি এতোটাই অমর্যাদা দেখানো হয়েছে, যা শুধু দেশের সুনামই ক্ষুণ্ণ করছে না, মানবতার নৈতিক বোধকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ পাকিস্তান (এইচআরসিপি)। তাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাঞ্জাবে গঠন করা হয়েছিল ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি), ostensibly বড় ও সংগঠিত অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সিসিডি গঠনের পর থেকে ঘটেছে ৬৭০টিরও বেশি ‘এনকাউন্টার’-এ মোট ৯২৪ জন সন্দেহভাজনকে হত্যা।
সবচেয়ে চরম ঘটনা ঘটে দক্ষিণ পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর শহরে। জুবাইদা বিবি বলেন, সিসিডি’র সশস্ত্র কর্মকর্তারা আমাদের বাড়িতে হানা দিয়ে সব লুটপাট করেছে—মোবাইল, নগদ অর্থ, গহনা, এমনকি মেয়ের যৌতুকের টাকাও। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ছেলেদেরও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জুবাইদার তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), আদনান (১৮)—সহ পরিবারের পাঁচজনকে ‘পুলিশ এনকাউন্টার’-এ হত্যা করা হয়।
জুবাইদা বিবি এবং স্বামী আবদুল জব্বারের দাবি, নিহতদের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তারা প্রত্যেকে বিবাহিত, পরিবারের দায়বদ্ধ ব্যক্তি এবং সমাজের সদগুরু হিসেবে জীবন যাপন করছিলেন। তবু পুলিশ তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে—যা বিচারবহির্ভূত এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট উদাহরণ।
এই ঘটনায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও পুলিশ হুমকি দিয়েছে—মামলা না তুলে গেলে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও হত্যা করা হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট যে, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার কেবল সাধারণ নাগরিককে নৃশংসতার শিকার করছে না, একই সঙ্গে দেশের আইন ও সংবিধানকে স্থলচ্যুত করছে।
এইচআরসিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিসিডি আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, পাঞ্জাব পুলিশের এই কার্যক্রম শুধু নাগরিকদের জীবনের প্রতি অমর্যাদা দেখাচ্ছে না, বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানাচ্ছে, সিসিডি গঠন করা হয়েছে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ-এর অধীনে। মরিয়ম তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ভাইঝি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দমনাত্মক প্রয়োগে নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
পাঞ্জাবে পুলিশের এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি ও শঙ্কায় রাখছে না, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও নৈতিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। একটি রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের জীবনকে রক্ষার পরিবর্তে ভয় ও হত্যার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সেটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতিত্ব, আইনশৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728 
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net